মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গড় পাশের হার ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। রোববার (৯ আগষ্ট) দুপুর ১টায় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ তোফাজ্জুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯০ হাজার ৭২৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৮৮ হাজার ৯৮৮ জন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬২ হাজার ৬৭১ জন পরীক্ষার্থী। গড় পাশের হার ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের গড় পাশের হার বেশী। ছাত্রীদের পাশের হার ৭২.৬৪ শতাংশ ও ছাত্রদের পাশের হার ৬৮.৪০ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৩৯৫ জন শিক্ষার্থী। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রদের সংখ্যা কম। ছাত্রীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৭ জন ও ছাত্রদের মধ্যে ১ হাজার ৫০৮ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ হাজার ২৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ১৩ হাজার ২০৪ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৩৯ জন। বিজ্ঞান বিভাগের গড় পাশের হার ৭৮.৫৭ শতাংশ
মানবিক বিভাগে ৫৪ হাজার ৪৮৫ জনের মধ্যে ৩৭ হাজার ৩৪৮ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২০ জন। মানবিক বিভাগে গড় পাশের হার ৬৮.৫৫ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ২৫৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ১২ হাজার ১১৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৫ জন। এ বিভাগে গড় পাশের হার ৭৯.৪৮ শতাংশ। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গড় পাশের হার ৭০.৪৩ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ তোফাজ্জুর রহমান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভাল হয়েছে। তবে এবারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে। প্রথমবারের মত অঙ্কে সৃজনশীল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া ও এক বোর্ডের প্রশ্নপত্র দিয়ে অন্য বোর্ডের পরীক্ষা নেয়ায় ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। তিনি আরো জানান, শহরে ৫০ ভাগ ও গ্রামাঞ্চলে ৩০ ভাগের কম পাসকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামীতে আরো ভাল ফলাফল উপহার দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে ২০০৯ সালে ৫৯ হাজার ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ হাজার ৭২২ জন উত্তীর্ন হয়। গড় পাশের হার ছিল ৫৫.৯০ ভাগ। ২০১০ সালে ৭৩ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে ৪৯ হাজার ২০২ জন উত্তীর্ন হয়। পাশের হার ছিল ৬৭.৫৪ ভাগ। ২০১১ সালে ৭৫ হাজার ৪৫৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৪৮ হাজার ৬৮৫ জন। পাশের হার ছিল ৬৬.১৮ ভাগ, ২০১২ সালে ৮৭ হাজার ৫০৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬৪ হাজার ৬৭৯ জন। পাশের হার ছিল ৭৫.৪১ ভাগ, ২০১৩ সালে ৮৮ হাজার হাজার ৪৪৪ মধ্যে ৬৩ হাজার ৬২৪ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ছিল ৭১.৯৪ ভাগ এবং ২০১৪ সালে ৯৮ হাজার ৩৭৩ পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হয় ৭১ হাজার ৯৪০ জন ও গড় পাশের হার ছিল ৭০.৪৩ শতাংশ।
২০০৯ সালে শতভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ছিল ৪টি, ২০১০ সালে ৫টি এবং ২০১১ সালে ৬টি, ২০১২ সালে ১২টি, ২০১৩ সালে ৮টি, ২০১৪ সালে শতভাগ পাসকৃত কলেজের সংখ্যা ১৭টি এবং ২০১৫ সালে শতভাগ পাসকৃত কলেজের সংখ্যা ২২টি। আর ২০০৯ সালে শতভাগ অকৃতকার্য কলেজেল সংখ্যা ছিল ৮টি, ২০১০ সালে ৫টি, ২০১১ সালে ৭টি, ২০১২ সালে ৫টি, ২০১৩ সালে ৭টি, ২০১৪ সালে ৭টি এবং ২০১৫ সালে ৫টি।
এবারে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৮২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮টি জেলার ৫৮৪টি কলেজ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। ফলাফল ঘোষনা করার সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের উপ-সচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উচ্চ মাধ্যমিক হারুনুর রশদি মন্ডল, (মাধ্যমিক) মোঃ আরিফুল ইসলাম, উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার পর এটি এ বোর্ডের অধীনে সপ্তম বারের মত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।